কালীগঞ্জে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণে অবহেলার দায়ে ২ শিক্ষিকা বরখাস্ত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ০৫ আগস্ট, ২০১৯ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণে অবহেলা করায় তাদের বহিষ্কার করেছে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। গত ৩১ জুলাই এক অফিস আদেশে কালীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুবিনা খাতুন ও পাপিয়া খাতুনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

১ আগস্ট থেকে তাদের এই বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। তবে পাপিয়া খাতুন বর্তমানে হাটবাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। বহিষ্কারের বিষয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালে সমাপনী পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন রুবিনা খাতুন এবং নিরীক্ষক ছিলেন পাপিয়া খাতুন। তারা উভয়ে পরীক্ষার্থী আরাফাত সিদ্দিক অহনের (রোল নম্বর ৩৯৩০) বালাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিন্তু ওই বিষয়ের মোট নম্বরের ঘরে যোগফল ৯৬ এর স্থলে ৭৬ লেখা হয়েছে। পরে দু’জনের কেউ তা সংশোধন করে নাই। ফলে ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। আরও বলা হয়, তাদের এরূপ কার্যকলাপ সরকারি দায়-দায়িত্ব পালনে অবহেলা জনিত অসাদাচরণের সামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিধায় আপনাকে সরকারি কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধি ২০১৮ এর ২(আ) এবং ৩(খ) অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা জনিত অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হল এবং একই বিধিমালার ১২এর উপবিধি(১) মোতাবেক সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হল।

অফিস আদেশে বলা হয়, সাময়িক ভাবে বরখাস্তকালীন সময়ে তারা কর্মস্থলেই অবস্থান করবেন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতীত অন্যত্র যেতে পারবেন না। অন্য কোন চাকুরি বা পেশা গ্রহন করতে পারবেন না। তবে তারা বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। তাদের বহিষ্কার আদেশ ১ অগাস্ট হতে কার্যকর হয়েছে। ছাত্র অহনের পিতা পরীক্ষার নম্বর ফর্দ ভুল দেখে বিভিন্ন দপ্তরে ছুটাছুটি করেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ না হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের টনকনড়ে। ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *