চাঁদপুর হাইমচর স্বামীকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে অভিযোগ নিহতের স্ত্রীর, সন্দেহের তীর নিহতের ছোট ভাইয়ের দিকে

চাঁদপুর (হাইমচর) প্রতিনিধি, মোঃ ইসমাইল হোসেন, ১১ জুন, ২০১৯ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : হাইমচর উপজেলার পূর্বচর কৃষ্ণপুর গ্রামের আমিন উল্যা আখনের ছেলে প্রবাসী আক্তার আখনকে মেরে গাছে জুলিয়ে রেখেছে বলে এমনটাই অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম (ডলি)। প্রবাসী আক্তার হোসেন র্দীঘ বিশ বছর ধরে কাতারে পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে চলে যান। এরেই মাঝে আক্তার আখন দেশে এসে দক্ষিন আলগী ইউনিয়নের দক্ষিন আলগী গ্রামের মাজেদা বেগম ওরপে ডলির সাথে বিবাহ আবদ্ধ হন।

তাদের বিবাহের আট বছরে দুটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। ৫ বছর বয়সের আরাফাত ও ২ বছরের ফরহাদ আর কখনো বাবা ডাকতে পারবে এমন জ্ঞান তাদের মাঝে নেই। নিহত আক্তারের স্ত্রী মাজেদা বেগম তার স্বামীকে হারিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় পাগলের ন্যায় কাদতে থাকে। তারই কান্না ও কষ্টের জবাব কেউ দিতে পারেনা।

আক্তার কাতার থেকে দেশে ফিরে এসে বাবা মার কাছে তার টাকা পয়সার হিসাব চাইলে পরিবারের শুরু হয় ঝগড়া ও মারধর । গত ৩০ মে রাতে আক্তারের সাথে তার ছোট শাহপরান ও তার বাবা মায়ের সাথে ঝগড়া হয়। ঐ রাতে আক্তার তাদের ঘরে ঘুমিয়ে থাকেন। ৩১ মে সকাল ৭ টায় তাদের ঘরের ১০ হাত দূরে ঝুলন্ত অবস্থায় আক্তারের লাশ তার বাবা আমিনউল্লা আখনের চোখে পড়ে।

এ ব্যাপারে নিহত আক্তারের স্ত্রী মাজেদা জানান, ঐ দিন সকাল ৭টায় তার শাশুড়ি তফুরেন নেছা ফোন করে জানান তার স্বামী ঘরের মিটার ও বাড়ী ঘর দোয়ার ভাঙ্গচুর বলে জানান। মাজেদা তার শুশুর বাড়ীতে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে না পেয়ে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করেন। পরে মাজেদা বেগম ঘরের পিছনে তার স্বামীর ঝুলন্ত লাশ দেখলে চিৎকারে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

তিনি আরো জানান, তার শাশুড়ি তফুরেন নেছা, জাল ববিতা বেগম, দেবর শাহ পরান তার স্বামীকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখে বলে জানান। তিনি আরো বলেন, তার স্বামীর হত্যাকারীদের নিদিষ্ট করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি সহযোগিতা কামনা করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, আক্তারকে তার পরিবারের লোকজন মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা হত্যাকারী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে নিহত আক্তারের ছোট ভাই শাহ পরান জানান, আমার ভাই আমার মাকে মারধর করলে আমি বাড়ীতে এসে ভাইকে বুঝালে সে চলে জান। আমি তাকে আগামীকালে বসে মিমাংশা করবো বলে। সকালে উঠে দেখি আমার ভাইয়ের বাড়ীর পাশে ফাঁস দিয়ে গাছের সাথে ঝুলে আছে। এলাকাবাসী ও নিহত আক্তারের স্ত্রী মাজেদা বেগম ডলির পরিবারের দাবী শাহ পরানকে আইনের আওয়াতায় এনে জিজ্ঞাসা করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *