রাজধানীর কল্যাণপুরে কম্ফোর্ট কামালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ ডিএমপিতে
ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক, নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ মে, ২০২৬ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : ঢাকা মহানগর উত্তর এর মিরপুর থানার অন্তর্গত কল্যাণপুর নতুন বাজার ও পোড়া বস্তি এলাকায় মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল স্বেচ্ছাসেবক দল (বিএনপি)’র নাম ভাঙিয়ে ঘোষণা দিয়ে চাঁদাবাজি, দোকান দখল, ভূমি দখল, ফুটপাত দখল করে টাকা কামানো ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কল্যাণপুর এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় যে, মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল নিজেকে একজন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের কল্যাণপুর ১১ নং ওয়ার্ড এর আহব্বায়ক দাবী করে এলাকার মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, কেউ তাহাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি-ধামকি দিয়ে জোর করে টাকা আদায় করছেন। সে কল্যাণপুর নতুন বাজার এর দেশ সময় সুপার মার্কেট এর দোকান মালিক পিচ্চি কামাল থেকে দশ হাজার টাকা, সাবেক দোকান মালিক মো : আরিফ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা, নাজমা আক্তার ভূঁইয়ার নিকট থেকে বিশ হাজার টাকা ও বস্তির কিছু নিরিহ লোকের নিকট থেকে বিভিন্ন এমাউন্টের টাকা চাঁদা তুলে নিয়েছেন। বরাদ্দপত্র পাওয়া এক দোকান মালিক নাসিমা আজাদকে প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দিয়ে তার দোকান জোড় পূর্বক দখল করে তার দোকানের ভাড়াটিয়াকে হুমকি ধমকি দিয়ে ২২ মাসের ভাড়া বাবদ একলক্ষ দশ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা যায়।
এবিষয়ে নাসিমা আজাদ সাথে যেগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি দেশ ওয়াকফ সময় প্রপারর্টিজ লি : থেকে ৫৬ নং দোকান ঘরটির বরাদ্দ পেয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখলে থেকে ভাড়া দিয়ে ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে ভাড়া পেয়ে আসছিলেন। বিগত ৫ ই আগষ্ট ২৪ আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের পরে হঠাৎ করে এই লোক মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল নিজেকে বিএনপির নেতা দাবী করে আমাকে বলে তাহাকে একলক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি তাহাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে আমাকে প্রাণ নাশ সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং আমার দোকানের মাসে মাসের ভাড়া উঠাইয়া নিতেছে। সে এপর্যন্ত ভাড়া বাবদ একলক্ষ দশ হাজার টাকা আমার দোকান থেকে উঠাইয়া নিয়েছে। এবিষয়ে আমি গত ২০/১০/২০২৫ ইং তারিখ মিরপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করিয়া কোন প্রতিকার পাইনি। পরবর্তীতে মার্কেটর অফিসে একটি অভিযোগ দাখিল করি, মার্কেট কমিটি আমার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি আমার অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে। পরবর্তীতে ০৫/০৩/২০২৬ ইং তারিখ আমাকে আইনি সহায়তা দিবেন ও আমি তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য একটি অফিস আদেশ পত্র দেয়। পত্র পেয়ে আমি গত ০২/০২/২০২৬ ইং তারিখ ডিএমপি কমিশনার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করি। বর্তমানে আমার অভিযোগ টি উপ পুলিশ কমিশনার মিরপুর বিভাগ এ তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। আমি তাহার শাস্তি চাই।
অন্য অভিযোগ কারী নাজমা আক্তার ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জনান যে, উপরোক্ত একই কায়দায় নাজমা আক্তার দোকান ভাড়া নিতে হলে তাহাকে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার স্বামী/সন্তানের প্রাণ নাশ সহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় ক্ষতি করবেন বলে হুমকি ধমকি দেয়। ভয় পেয়ে স্বামী/সন্তানের সুখ ও শান্তির কথা চিন্তা করিয়া বাজার কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাইনুদ্দীন হাওলাদার এর মধ্যস্থতায় গত ২২/০২/২০২৫ ইং তারিখ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীকম্পোর্ট কামালকে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দেই। এর পর আবারও তাহাকে একলক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি দিতে অস্বীকার করলে সে গত ১০/০৪/২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটের সময় সরকারি ডি টাইপ কলোনির দক্ষিণ পাশের মেইন রাস্তার পাশে আমার স্বামীর পথ রোধ করে মারধোর করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে গত ১২/০৪/২০২৬ ইং তারিখ আমি ডিএমপি কমিশনার ঢাকা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগ টি বর্তমানে উপ পুলিশ কমিশনার মিরপুর বিভাগ এ তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান যে, মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল ৫ ই আগষ্ট ২৪ এর পর তার চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তার জন্য ওপেন সিক্রেট, এলাকার মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, সে এখন ব্যা-পরোয়া হয়ে গেছে, কথায় কথায় মানুষকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে, ফুটপাত থেকে শুরু করে সকল জায়গায় গিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলছে, চা দোকান/পান দোকান/মুরগী দোকান/মাছ দোকান/সবজি দোকান/ফল দোকান/ভাঙারী দোকান/সেলুন দোকানসহ সকল দোকান থেকে চাঁদা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তার কোন কর্ম নাই, সে চাঁদাবাজি/দখলবাজি/সন্ত্রাসী করে টাকা কামিয়ে খায়।
বাজার কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাইনুদ্দীন হাওলাদার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান যে, মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামালের চাঁদাবাজি/দখলবাজি/সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও হুমকি, ধমকি-ধামকির কারণে এক ব্যবসায়ীসহ এলাকার কয়েকজন লোক কল্যাণপুর নতুন বাজার ও পোড়া বস্তি ছেড়ে চলে গেছেন। আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে কিছু লোককে পুলিশী হয়রানি করিয়াছেন। কেউ কিছু বললে বা নুন থেকে চুন খসলেই পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এহেন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে না যাওয়ার কথা বললে, সে আমাকে বলেন যে, পারলে আমাকে কিছু করেন, সে বলে আমাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না। আমি বিএনপি করি, দলের উপরের নেতারা আমার সঙ্গে আছেন। আমি যে ভাবে বলবো সেই ভাবে এই এলাকা চলবে। আমার কাজের যে বিরোধিতা করবে, তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সাইজ করবো, বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলবো। সে বাজারের চেয়ারম্যান সাহেব কে তোর হাতের নাগালে পেলেই হাতুরি দিয়ে পিটাবে বলে জানান। সে একজন স্বীকৃত চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি নস্যাৎ করে ফেলতেছেন। আমি তার এসব অপরাধ বা অপ-কর্মের জন্য তাকে বিচারের মূখোমূখি করার জন্য সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এবিষয়ে দেশ ওয়াকফ সময় প্রপার্টিজ ও দেশ সময় সুপার মার্কেট এর পরিচালক মো : কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, আমি মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল কে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য বহুবার বলেছি। তার নামে বহু অভিযোগ কোম্পানির অফিসে জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানি আমাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আমি ও তদন্ত কমিটির সদস্য জনাব, এ টি এম জহিরুল ইসলাম এবং তদন্ত কমিটির সদস্য জনাব মো : আলী হোসেন সহ আমরা প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করিয়াছি। তদন্ত কালে তার চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জড়িত থাকার বিষয় টির প্রমাণ পাওয়া পেয়েছি, সে একজন স্বীকৃত চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসী। সে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ১১ নং ওয়ার্ড এর আহ্বায়ক হিসেবে নিজেকে দাবি করে এসব অপকর্মের কাজ গুলো চালিয়ে যাচ্ছেন, সে মার্কেটের ভিতরে নাসিমা আজাদের দোকান দখল করে একলক্ষ পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া উঠাইয়া নিয়েছে যাহা বর্তমানেও চলমান রয়েছে, মার্কেটের গলির ভিতর চা দোকান বসিয়ে টাকা কামাচ্ছে, সে ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে টাকা কামাচ্ছে, সে মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন- মুরগী, ডিম ও কাছামালের দোকানদারদের রাত ৩/৪ টায় মালামাল নামানো নিয়ে চাঁদা চাচ্ছে বা এখন থেকে তার নিকট থেকে মালামাল কিনতে হবে না হয় দোকানদারদের ব্যবসা করতে দিবেনা বলে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে তার বিরুদ্ধে মার্কেটের অফিসে মৌখিক ভাবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দিয়েছেন, মার্কেটে বা বস্তিতে দুই পক্ষ কোন সাধারণ ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্ট্রি হলে সে মাঝখানে ঢুকে গিয়ে যে কোন এক পক্ষ নিয়ে অন্য পক্ষকে আসামী বানিয়ে তার কাছ থেকে জোড় করে টাকা ও ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করছেন যাহা পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকা দাবী করছে ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে বস্তির ভিতর থেকে চাঁদা তুলে নিয়ে খাচ্ছে ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আমি তার এসব অপকর্মের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অতি দ্রুত তার এহেন অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে দল সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার মিরপুর বিভাগ এর ডিসি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যপারে মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামালের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি যা ইচ্ছে তা করবো, আমার বিষয় নিয়ে নিউজ প্রকাশ করে আমার কিচ্ছু করতে পারবেন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলব এবং তাহার অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন বলেন ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন প্রতিবেদককে। এ বিষয়ে কল্যাণপুর ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি সপন আহমেদ সাকিল এর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, মো : কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল একজন চাঁদাবাজ/দখলবাজ/সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক, তার উপরোক্ত অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আমি শুনেছি জেনেছি এবং কিছু লোক আমার কাছে এসেছে, আমি দলের হাই কমান্ড কে জানিয়েছি, নির্দেশ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপে নেওয়া হবে, তার আন্ডার ওয়াল্ডের সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ থাকতে পারে, থানা ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে, পুলিশ ও সংস্থা গুলো তদন্ত করছেন, সে বিএনপির কেউ নন, বিএনপি এসব অপরাধের সুযোগ দেয় না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব, তারেক রহমানের নির্দেশনা আছে যে, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে তাকে ধরে থানায় সোপর্দ করার জন্য। আমি তার এসব অপরাধ কর্ম-কান্ডের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
