প্রধানমন্ত্রীর পরিবারসহ জাতীয় নেতাদের নামে ভূয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে প্রতারণা ও রাষ্ট্র বিরোধী প্রচারের অপরাধে ৫ জন গ্রেফতার : র‌্যাব

ঢাকা (তথ্যপ্রযুক্তি), ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ জাতীয় নেতাদের নামে ভূয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে প্রতারণা ও রাষ্ট্র বিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মো. ওমর ফারুক (৩০), মো. সাব্বির হোসেন (২৪), মো. আল আমিন (২৭), মো. আমিনুল ইসলাম আমিন (২৫) ও মো. মনির হোসেন (২৯)।

বৃহস্পতিবার র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব-২ এর সাইবার টহল দল ভুয়া ফেসবুক ব্যবহারকারী ও তাদের মূল হোতাদের গ্রেফতারের জন্য বুধবার ভোর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মগবাজার, ডেমরা, মেহাম্মদপুর এবং ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ ও সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেফকার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে তাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন মডেলের ১২টি মেবাইল ফোন ও ১টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং ফেসবুকে গুজব সৃষ্টি, ভুয়া, উস্কানিমূলক ও রাষ্ট্র বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। পেশায় ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক (৩০) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ৬ টি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১টি, আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতাদের নামে ৩৬টি পেজ ব্যবহার করেন। নিজ নামে তার ৬টি ফেসবুক আইডি আছে। সে তার পরিচালিত সব ফেসবুক পেজ এ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছে।

ফেসবুক পেইজের সূত্র ধরে নিজেকে দলের বিশেষ এজেন্ট দাবি করে আসন্ন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারী নেত্রীদের ফোন করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। সাব্বির হোসেন (২৪) পেশায় সাইবার কমিউনিকেশন এক্সপার্ট সাব্বির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের কৃত ২টি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ৪টিসহ মোট ৬টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।

সে এর আগে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স, দেশ নেত্রী সাইবার ফোরাম পেইজ এর এডমিন ছিলো। সম্প্রতি সে শেখ হাসিনার পরামর্শ ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নাম সংযোজন করে তাতে নিরাপদ সড়ক চাই ও কোটা সংস্কার আন্দোলন এর উস্কানিমূলক ভিডিও পোষ্ট করে আসছিল। আল আমিন (২৭) পেশায় বেসরকারী চাকুরে। সে সাইবার অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত একটি পেইজ এর এডমিন। সে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের ছবি বিকৃত আকারে প্রকাশ করে আসছিল।

আমিনুল ইসলাম আমিন (২৫) ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছাত্র সংগঠনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য। ইউ টিউবে বিভিন্ন কমিক আইটেম প্রচার করে থাকে। তার ফেসবুক একাউন্ট মোট ৪টি ও ফেইসবুক পেইজ ৩টি। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর লোগো সংযোজন করে ১টিসহ প্রজন্ম চেতনা ও স্পাই উদ্দিন নামে ফেসবুক পেজ এ গুজব ও আন্দোলন সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোষ্ট করে ভাইরাল আকারে প্রচার করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল।

ব্যবসায়ী মনির হোসেনের (২৯) বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে কেরাণীগঞ্জ থানায় বেশ ক’টি মামলা রয়েছে। তার নামে ৩ টি ফেসবুক আইডি ও ৪ টি পেইজ রয়েছে। তিনি সত্যের বিস্ফোরণ নামে একটি পেইজ এর এডমিন। মনির হোসেন তার ফেসবুক আইডি ও পেইজ হতে রাজনৈতিক অপপ্রচার, রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপ ও বিভ্যান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের নামে ভূয়া ফেসবুক পেজ খুলে ভূয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে র‌্যাবকে অবহিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *