cara melakukan penarikan dana di olymp trade giấy ủy quyền giao dịch ngân hàng agribank robô jtm opções binárias cual es la mejores señales para opciones binarias types of binary options forex opções binárias e bitcon

জাতীয়তাবাদের কাছে আন্তর্জাতিকতাবাদ পরাস্ত

সাইফ শোভন

কলাম, ১৩ নভেম্বর, ২০২০ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : এ যেন মেলা বসেছে সারা পৃথিবী জুড়ে, কোন জাতি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি তার প্রতিযোগিতা চলছে। বৃটেনের ব্রেক্সিট ইস্যু, ভারতের বিজেপি, রাশিয়ার ব্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প সবাই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে সেরা। জাতি হিসেবে কে সেরা সেটা অবশ্য ঠিক করার কোন মানদন্ড নেই। কিন্তু সারা পৃথিবীর আম জনতাই ঠিক করবে কে সেরা। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান বিজেপির হাত ধরে। যদিও ভারত তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবী করেন যে ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, একটা সময় ছিল যখন বিজেপি ভোটে মাত্র ২টি আসন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এখন সেই বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায়। ভারতের জনগণ কংগ্রেসকে দেখেছে (উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল), আবার কমিউনিষ্ট শাসন দেখেছে (যারা নিজেদেরকে আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুসারি দাবি করে), মমতার তৃণমূল কংগ্রেস (জাতীয়তাবাদের ধারা)। বিজেপির উগ্র জাতীয়তাবাদের (হিন্দু জাতীয়তাবাদের তথা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি) ধোয়া তুলে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছে। অযোধ্যায় মসজিদের বদলে রাম মন্দির নির্মান করবে বলে ঘোষনা দিয়েছে (ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী)। মোদী ভারতকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হিন্দু জাতী তথা সাম্প্রদায়ীক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত করেছে। যা পৃথিবীর মানচিত্রে উগ্র হিন্দুজাতীয়তাবাদ এর উত্থান ঘটেছে।

উগ্র জাতীয়তাবাদের পৃষ্ঠপোষক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেন এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিকতাবাদের পতন ঘটিয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। পরবর্তিতে ভারতকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করেও করতে পারেনি। কারন হিন্দু উগ্রজাতীয়তাবাদই যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এর সুফল। অপরদিকে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছিল বহুকাল আগেই তখন এ উপমহাদেশে বৃটিশরা দুশো বছর রাজত্ব করলেও পরে বৃটিশরা তলপি তলপা গুটিয়ে উপমহাদেশ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। বৃটিশরা সরেছে ঠিকই কিন্তু যাওয়ার সময় তারা দ্বি জাতী তত্তে (ঞড়ি হধঃরড়হ ঃযবড়ৎু) দ্বি খন্ডিত করে রেখে যায় এই উপমহাদেশকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের থাকা মানে পৃথিবীর ক্ষমতাধরদের ভারসাম্য থাকা তা আগে থেকেই মার্কিনীরা বুঝতে পেরেছিলো বলেই সিআইএর সফলকাম হয় সোভিয়েতকে ভেঙ্গে। রাশিয়া সমাজতন্ত্র থেকে পুঁজিবাদে উত্তরণ যেন জাতীয়তাবাদ এর কাছে আন্তর্জাতিকতাবাদ এর নির্মম পরাজয়। শোষিত, নিপিড়িত, বিত জাতি সমুহের পাশে ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিন্তু সেটা বেশীদুর যেতে দেয়নি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। আমাদের দেশের কথাই ধরা যাক, মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল রাশিয়া আর অন্যদিকে পাকিস্তান হানাদারদের পক্ষে ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। নতুন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উত্থান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। যদিও ভারত সেদিন স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। ভারতের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেনো সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল বলেই আমরা আজ স্বাধীন জাতি।

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের বিতর্ক মূলত ৭৫ এর পট পরিবর্তনের মধ্য থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ না বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এ নিয়ে আজও বিতর্ক চলমান। যেহেতু বাংলাদেশে নানান ধর্ম, জাতি, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি প্রভৃতি বিরাজমান তাই আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বলতে পারি না। বাঙ্গালী বলতে বাংল ভাষা ভাষি মানুষের সমন্বয় যেমন পার্বত্য জনগোষ্ঠির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মানুষ থাকায় এখানে বাংলাদেশী না বলে বাঙ্গালী বলতে দ্বিধা কেন। তাই আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ না বলে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ বললে ভুল হবে না। আমরা বাঙ্গালী হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে পরিচিত হতে চাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি বাঙ্গালী জাতি। আর তাই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উত্থান কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নয় বরং তা আন্তর্জাতীকতাবাদেরই উত্থান কেননা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ১৫ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে আর বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি লোক বাংলায় কথা বলে। এখানে ধর্মের চাইতে ভাষাটাকেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আবার বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ধারক আওয়ামীলীগ ৪ বার ক্ষমতায় আসা জাতীয়তাবাদেরই জয়জয়কার অবস্থা সেখানে আন্তর্জাতিকতাবাদেরই পরাজয় কি না তা বিবেচ্য বিষয়।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পর থেকে পৃথিবীতে ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকায় মুলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান এর জন্ম। এক মুদ্রা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয় ইইউ। ডলারের বিপরীতে ইউরো হুহু করে দাম বাড়তে থাকে । যদিও ইইউ একটি আন্তর্জাতিকতাবাদের লক্ষণ কিন্তু ব্রেক্সিট ইসু বা তা বাস্তবায়ন হলে ই্্্্্্ইউকে দুর্বল হয়ে যেতে হবে। তাহলে ব্রেক্সিট হলে কি ব্রিটিশরা আবার সাম্রাজ্যবাদের ধারায় ফিরে আসবে। বৃটেন নব্য জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটালে কি জাতীয়তাবাদের কাছে আন্তর্জাতিকতাবাদের পরাজয় নয়।

তবে সেদিন আর বেশী দুরে নয় যেদিন সমগ্র মানব জাতী এক হয়ে বিবর্তনের ধারায় সাম্যবাদের দিকে অগ্রসর হবে। মানুষে মানুষে বিভেদ, বনা, শোষন, নিপিড়ন, অত্যাচার জাতী আর থাকবে না। সবাই আন্তর্জাতিক হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *