ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে কাজ করছেন

আন্তর্জাতিক, ১৮ মে ২০১৯ (বিডি ক্রাইম নিউজ ২৪) : উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা প্রত্যাখান করে, তেহরানের পক্ষ থেকে আসন্ন হামলা পরিকল্পনার অজুহাত তুলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ অঞ্চলে ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরও ইরান ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখাচ্ছে। খবর এএফপি’র। সাগরে অবস্থান নেয়া মার্কিন রণতরীতে হামলা করা খুবই সহজ। কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে শক্তির আস্ফালন চলছে। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে কাজ করছেন। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে কাজ করছে। ইরান পুরো পরিস্থিতিকে স্নায়ুযুদ্ধ ও রাজনৈতিক খেলা বলেও মন্তব্য করেছে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান তাদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ছোট নৌযানে ক্ষেপণাস্ত্র তুলেছে এমন ছবি প্রদর্শনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি রণতরী ও বি-৫২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। কৌশলগত দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর অন্যতম হচ্ছে উপসাগর। জাপানের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা জন্য টোকিও সফরে যাওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করা ছয়টি দেশের মধ্যে বছর খানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এ সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদ দূতাবাস থেকে তাদের কয়েকজন কর্মীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরান হামলা চালাতে পারে নিজ দেশের এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। ইরানের উদ্দেশে রণতরী নিয়ে লোহিত সাগরের সুয়েজ খালে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন নৌবহর। তবে বরাবরই মার্কিন ওই গোয়েন্দা তথ্যকে ভুয়া বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শাখা দ্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পার্লামেন্টবিষয়ক ডেপুটি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালেহ জোকার যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীর ওপর সহজেই ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তাছাড়া যুদ্ধের খরচ চালানোর সাধ্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি এখন জনশক্তি ও সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন অতিবিশ্বাসী হচ্ছেন আমি তা জানি না। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে করা আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে গত বছর একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও ‘আমরা সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছি। বুধবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে ইরান শিগগিরই আলোচনা করতে আগ্রহী হবে। ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে জরুরি প্রয়োজন নেই এমন স্টাফদের দেশে ফিরে আসতে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দেশ জারি করার পর ট্রাম্প এমন ইঙ্গিত দিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেন, আমি নিশ্চিত যে ইরান শিগগিরই আলোচনায় বসতে চাইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *